1 / 5
Shyamray Shyamrani
2 / 5
Thakur Sri Sri Sitaramdas Omkarnath Dev
3 / 5
Thakur Sri Sri Sitaramdas Omkarnath Dev
4 / 5
Thakur Sri Sri Sitaramdas Omkarnath Dev
5 / 5
Thakur Sri Sri Sitaramdas Omkarnath Dev


Amrite Milao Nath


অমৃতে মিলাও নাথ
💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐
ময়টা ছিল ১২৯৮ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ইংরাজি ১৮৯১ সাল। ফাগুন মাসের তারিখ, সকাল আটটা এক মিনিট,স্বচ্ছতোয়া সুরধুনী গঙ্গার তীরের কেওটা গ্রামে জন্ম নিলে, উত্তরকালের এক মহাসাধক শ্ৰীশ্ৰী সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ। পিতা প্রানহরি আর মাতা মাল্যবতী। শৈশবে মাতৃহারা এই শিশুকে বুকে তুলে নিলেন জগ কামারণী। বিমাতা গিরিবালা দেবী তখনও বালিকা বধু তাই এই জগ-কামারণীই নিজের কন্যাসন্তানের সঙ্গে মাতৃদুগ্ধ ভাগ করে বাঁচিয়েছিলেন।

 শিশুটি নগরপ্রদক্ষিণকারীদের নামকীর্তন শুনে পাগলের তো প্রায় উলঙ্গ হয়ে দৌড় দিতেনওই বাজল হরিনামের ডঙ্কা-ধো ধো ধো। হুগলি জেলার কেওটায় প্রাণকৃষ্ণ ঠে এসে আমরা থমকে দাড়াই। ফাল্গুন সকাল আটটা এক-,পূজা আরতি প্রদীপের  লোয়, স্বস্তিবাচনে, বেদগানে যে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়, তা ছড়িয়ে যায় ভারত জুড়ে সীতারাম তীর্থগুলিতে। ভক্তের কণ্ঠে সমবেত তারকব্ৰহ্ম নাম এই ফাল্গুনের আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রার্থনা করি, ‘এমনি করে আমার   হৃদয় তোমার নামে হো না নামময়! জাহ্নবীর তরঙ্গভঙ্গে একটি ঘৃতপ্রদীপ ভাসিয়ে বলিঅমৃতধারক যেন হতে পারি আমি উপযুক্ত কলেবর কর মোর তুমি
দীক্ষাস্থল ত্ৰিবেণী 
💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐
গঙ্গা যমুনা সরস্বতী-তরঙ্গিনী তিনটি সখী একসঙ্গে ত্রিধারায়। উচ্ছাসে বয়ে চলেছে অনাদিকাল থেকে। বঙ্গদেশে এই প্রয়াগের নাম মুক্তবেণী তার তীরে অনাদিকাল থেকে সাক্ষী রয়েছে মনসামঙ্গলে বর্ণিত চাঁদ সওদাগরের কাহিনীর নেতি ধোপানির ঘাট, হিন্দুদের পরম তীর্থস্থান। এছাড়াও রয়েছে বেণীমাধব মন্দির, প্রাচীন শিবমন্দির, কালীতলায় ডাকাতকালীর মন্দির, বাঁশবেড়িয়ায় হংসেশ্বরী মন্দির, অনন্ত বাসুদেব মন্দির। মানসভ্রমণে চলেছি আমরা, নগর সংকীর্তন সঙ্গে করে। ধরে নেওয়া যাক এখন বাংলা ১৩১৯ সাল ২৯ পৌষ। পৃথিবী সৃষ্টির সময় সেই যে অনন্ত ওঙ্কারধ্বনির শুরু, তা কান পাতলে এখনও শোনা যায় -- -- ওম। প্রবোধচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অর্থাৎ শ্ৰী শ্ৰী সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ দীক্ষা নিলেন তাঁর শিক্ষাগুরু দেব দাশরথি স্মৃতিভূষণের কাছে।
সূর্যদেব দিগন্তরেখায় মিলিয়ে যাচ্ছেন, আকাশে কনেদেখা নরম লো গৃহস্থের ঘরে ঘরে বেজে উঠল শাঁখঘন্টা। ত্রিবেণী শহরের এই ছোট্ট বাড়ির ততোধিক ছোট্ট  ঘরটিতে গুরুর সঙ্গে শিষ্যের এক নিশ্চিন্ত আধ্যাত্মিক যোগাযো সৃষ্টি করল এক মাহেন্দ্রক্ষণের। মন্ত্রদীক্ষায় দীক্ষিত হলেন স্বয়ং যোগীবরিষ্ঠ, ত্যাগের মূর্ত প্রতীক। বহু বছর পরে আবার একদিন এই ঘরে ফিরে আসতে হয়েছিল সীতারামদাসকে তখনও তিনি ওঙ্কারনাথ হননি। কিন্তু সাধনার সেই স্তরে তখন সব ওঙ্কারময় হয়ে গেছে তাঁর। ধ্যানযোগে নাম ভেসে এল ওঙ্কারনাথ। ঘটস্থাপন করে অশ্বথপত্রে নাম লিখলেন ওঙ্কারনাথ। ওঙ্কারময় নিরাভরণ ত্যাগী ঋষি। এসেছেন সমাজের জন্য, তাপিত পীড়িত জীবকে উদ্ধারের জন্য। একদিকে যেমন শাস্ত্রপথিক অতিবর্ণাশ্রমী ছিলেন তিনি, তেমন আবার শ্রীচৈতন্যের মতাে ওঙ্কারনাথেরও সব নিয়ম কানুন ভেসে গেছে ভালোবাসার স্রোতে।
মহেশতলা শ্ৰীশ্ৰী কমলামাতা আশ্রম 
💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐
সঙ্ঘজননী কমলামাতার আশ্রমে এসে। দাঁড়াই আমরা। এখানে ঠাকুর সীতারাম
তাঁর সহধর্মিণী কমলাদেবীর সঙ্গে একাসনে বিদ্যমান। তিনি একই জীবনে পালন করেছেন পুত্র, শিষ্য, গুরু, স্বামী, পিতা সবকটি ভূমিকা। যেন নিরাসক্ত জলদগম্ভীর স্বরে ঘোষণা করেছেন এবারে এসেছি মঠ, মিশন সন্ন্যাসী তৈরি করতে নয়, এবারে এসেছি আদর্শ সংসারি তৈরি করতে। সংসারগুলােকে আশ্রমে পরিণত করতে। কমলা মাও সাধারণ নারী নন, আদর্শে ভারতনারী।
ভূদেব চতুষ্পাঠী
💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐
প্রকৃত ঋষি কখনও আত্মদর্শনে থেমে থাকেন না। জগৎকল্যাণের জন্য তাঁকে নেমে আসতে হয় মাটির পৃথিবীতে। সীতারাম তখন তরুণ তপস্বী। চব্বিশ বছর বয়স। অপার্থিব উন্মাদ অবস্থা৷৷ বদ্ধপদ্মসনে ধ্যানমগ্ন। হঠাৎ অবতরণ হয় দেবাদিদেব মহাদেব এবং পার্বতীর। ইষ্টমষ্ট্রের মন্দ্ৰধ্বনি নিয়ে চলে তাঁকে জ্যোতির্ময় নাদলোকে। দৰ্শন হয় দ্বিতীয়বার। ধীরে ধীরে সব শান্ত হয়ে আসে। আমাদেরও মানসভ্রমণ শেষ হয়, ভো চারটের চটকলের কর্কশ বাঁশীর। আওয়াজে। এক ঘুমঘো ছিল যেন। প্রভাতী সুরে বাজতে থাকে। মহামনাম। ভক্তরা যেখানে শ্ৰীহরিনাম করেন সেই জায়গা ছেড়ে তাঁর যাবার সাধ্য কি! তাই বুঝতে পারি তিনি আছেন, আমাদের মধ্যেই ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন আজও।
তীর্থক্ষেত্র ডুমুরদহ
💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐
বারাণসী সমতুল এই ছোট্ট গ্রামটিতে পূণ্যতোয়া ভাগীরথী বহমানা। সারি সারি শিবমন্দির, রাধারমণ মন্দির, ব্ৰজনাথবাটী, কালীতলা, রামাশ্ৰম, উত্তমাশ্ৰম সব মিলিয়ে মনে হয় সময় বুঝি থেমে আছে। সেই কালেই। পাঁচ বছরের শিশু ওঙ্কারনাথ, সবার আদরের প্রবো দেখলেন শিবকে৷ পরনে বাঘছাল, মাথায় জটা, বাঁ হাতে। ত্রিশূল, ডান হাতে ডমরু। রূপকথার গল্পের তো সেই ঘর আজও সাক্ষী দেয় এক পরমপুরুষের আবির্ভাবের। বিশ্বের সব সীতারামপথিক,আমরা স্তব্ধ হয়ে। ধ্যানমগ্ন হই।ডিভাইন লাইফ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট স্বামী চিদানন্দ বলেছিলেন, শাস্ত্রে বলেছে যে কলিযুগে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের নামই একমাত্ৰ আশ্ৰয়।। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আবির্ভূত হয়েছিলেন এই যুগধর্মকে প্রচার করতে, সর্বত্র পরিব্যাপ্ত প্রতিষ্ঠিত করতে। অনেক শতাব্দীর পর ঠাকুর এসেছেন শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মাহাত্ম্যপূর্ণ আরব্ধ কর্মের পুনরুজ্জীবন এবং পূর্ণতর রূপায়নের ব্রত নিয়ে।...
তাঁর সমগ্র জীবন ব্যক্তিসত্তা নামভক্তি নামশক্তিরই ভাস্কর উদাহরণ।।
গুরুগৃহ দিগসুই
💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐
আমরা এখন আর এক নই, সাথী হয়েছেন আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ মানসভ্রমণে সঙ্গে শ্ৰীহরিনাম সংকীর্তন। দিগসুই গ্রামে এসে পড়েছি আমরা ১৩১৫ বঙ্গাব্দে। গুরু দাসরথি দেবের বাড়িতে বিদ্যার্থী রয়েছেন প্ৰবোধ। গুরুগৃহে বাস, কঠোর ব্ৰহ্মচৰ্য, তপস্যা, ব্ৰতপালন, গুরুসেবার আদর্শে উপমন,আরুণিও তুচ্ছ হয়ে যান। শিক্ষাগুরু দাশরথি উঠবেন হয়ে প্রবোধের দীক্ষাগুরু আর সেই সঙ্গে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে ভারতের অধ্যাত্ম ইতিহাসে। পরমগুরুধাম দিগসুইতে নামসংকীর্তন সহ ভক্তের দল করজোড়ে প্ৰাৰ্থনা জানায়, হেসাধক, তোমার শরণাগত করে নাও একীভূত করে লও। প্ৰিয়তম প্রাণ আমার আমি নাথ কর অবসান
💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐 💐

[Source:- Bises Rachana (Saptahik Bartaman(17th February,2018)) written by Sarada Sarkar]




Comments